সিলেটের যে ২০ গ্রামের মানুষের নৌকাই ভরসা!
সিলেটের সীমান্ত ঘেঁষা জনপদ কানাইঘাট উপজেলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছে সুরমা নদী। স্বাধীনতার বায়ান্ন বছরেও স্থানীয় ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের ২০ গ্রামের লোকজনের যাতায়াতে নেই সরাসরি সড়ক যোগাযোগ।
প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। এলাকার লোকজন জেলা শহর কিংবা শিক্ষা, চিকিৎসায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ সেতুর দাবি করে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী বলেন, বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে প্রবল স্রোতের মধ্যে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে থাকেন। তাছাড়া নৌকা ডুবির ঘটনা তো হরহামেশাই হচ্ছে। স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নৌকাডুবিতে প্রতিনিয়তই নষ্ট করছে বইখাতা। এ কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছেন। মমতাজগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর একটি সেতু হলে পাল্টে যাবে লক্ষাধিক মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয় ডা. শাহ আজাদ আলী সুমন বলেন, এ অঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অসুস্থ হলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে জীবন ঝুঁকিতে পড়তে হয় রোগীদের।
কানাইঘাট গণ অধিকার পরিষদের আহবায়ক ফখরুজ্জামান ফারুকী বলেন, মমতাজগঞ্জে সেতু বাস্তবায়ন হলে লোভা পাথর কোয়ারি, চা বাগানের বিপনন ব্যবস্থা সহজ হবে। পাশাপাশি দেড় লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রায় গতি আসবে।
সিলেট-৫ আসন সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্মার্ট বাংলাদেশের এ সময়ে একটি উপজেলার মানুষ দ্বীপের মতো বসবাস করছেন, যা কাম্য নয়। মমতাজগঞ্জে সেতুর জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েও পাশ হওয়ার পর দীর্ঘদিনেও টেন্ডার না হওয়া রহস্যজনক। আমি বিষয়টি নিয়ে সংসদেও কথা বলেছি। যদি আর ৬ মাস সময় পেতাম সব কাজ গুছিয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারতাম।
সিলেটে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) এ কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, মমতাজগঞ্জে সেতু বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে সয়েল টেস্টসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মমতাজগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।









